একাত্তর টিভি জানিয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার কাছে পরাজয়ের পরপরই ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের পাসপোর্ট দুটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর না করায় এবং ২৪ ঘণ্টার নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ফেডারেল পুলিশ তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক দুটি পাসপোর্টই বাতিল ঘোষণা করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাইস এই আদেশ জারি করেন।
ব্রাজিলীয় গণমাধ্যম ‘ফোলা দে সাঁও পাওলো’ জানিয়েছে, তিনি নির্বাচন হারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন, যদিও ব্রাজিলের অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে তাঁর দেশ ত্যাগের কোনো অফিসিয়াল রেকর্ড নেই।
ফ্লাভিও বোলসোনারোর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আর্জেন্টিনাভিত্তিক মাধ্যম ‘ইনফোবায়ে’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মিসিওনেস প্রদেশে প্রবেশ করেছেন এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রেস সচিব এবং মুখপাত্র আদ্রিয়ান রাভিয়ার তীব্রভাবে সেই দাবি অস্বীকার করেছেন, এবং জানান যে বলসোনারোর পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনায় কোনো আশ্রয় চাওয়ার আবেদন জমা পড়েনি।
ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশও প্রতিবেশী দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।
৪৫ বছর বয়সী এই সিনেটর সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের বোলসোনারোর বড় ছেলে। তাঁর বাবা হাভিয়ের বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
পরে তিনি ফিরে এলে ই-ভোটিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৮ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ হন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন পরবর্তী অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে ২৭ বছরের গৃহবন্দিত্ব ভোগ করছেন।
ফ্লাভিও বোলসোনারোও অন্তত দুটি বড় ধরনের কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখে রয়েছেন: একটি হলো অবৈধ অর্থ পাচার, দুর্নীতি এবং কর ফাঁকির অভিযোগ, যা ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত ‘ব্যাংক মাস্টার এসএ’-র সাবেক মালিক দানিয়েল ভোরকারোর সঙ্গে সম্পর্কিত; অপরটি হলো এক বিতর্কিত আইনজীবীর সঙ্গে অবৈধ আর্থিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মঙ্গলবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনের প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অনুসারী কোনো গোষ্ঠী বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ অর্থায়ন এসেছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে।
সব মিলিয়ে ভোটে হারের পর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং বলসোনারোর আকস্মিক নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।







