পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অন্যদিকে, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলে প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ চানখা, সদস্য সচিব ভিপি হামিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন ও সহকারী কমান্ডারসহ অন্যান্যরা।

আর দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টায় মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানিত হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁদের জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। পিরোজপুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সবশেষে, মানববন্ধন থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।