একাত্তর টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের দুই কক্ষেই জয়কে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের অবসানের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও গাজা যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মার্কিন ব্যালট বাক্সে রিপাবলিকানদের ধস নামার পর, ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক জোট নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ খুঁজছে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও সরকার গঠনের স্পষ্ট মেজরিটি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে একজনকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। বর্তমানে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৩ সালের গাজা অভিযান এবং চলতি বছরে ইরানের ওপর যৌথ সামরিক হামলার পর মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মাঝে ইসরাইলি নীতির বিরোধিতা বেড়েছে। এমনকি ভোটের দিন ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইসরাইলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য বন্ধ করা হবে।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়াইর গোলান সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে নেতানিয়াহু এখন উভয় রাজনৈতিক শিবিরের কাছেই কতটা অপ্রিয়। মধ্যপন্থী নেতা ইয়াইর লাপিদও মন্তব্য করেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখা সম্ভব নয়। তবে এই বিষয়ে নেতানিয়াহু বা তাঁর কার্যালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর উদি সোমার মন্তব্য করেছেন, আগামী দিনে মার্কিন আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। আইন প্রণেতারা তদন্ত, বাজেট আটকানো এবং শুনানির মাধ্যমে তেল আবিবের ওপর চাপ বজায় রাখবেন।







