দেশ রূপান্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩.৫% হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স $3,880.97 এ নেমে এসেছে, যা অক্টোবর ২০২৫ের পর সর্বনিম্ন। একই দিনে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে দাম ৩.৩% কমে $3,898.90 এ স্থিত হয়েছে। বছরের শুরুর জানুয়ারি স্বর্ণের দাম $5,595 ছিল, ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০% হ্রাস ঘটেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সুদের হার উচ্চ থাকার আশঙ্কা ও এশিয়ার চাহিদা হ্রাসের ফলে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে; তবে দাম $4,000 এর নিচে নেমে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে।

রুপার দামও ৬.৫% কমে প্রতি আউন্স $49-এ নেমে এসেছে, যা ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবার $50 এর নিচে। প্যালাডিয়ামের দামও $1,000 এর নিচে নেমে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শেয়ার দামের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মার্জিন কল মেটাতে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদ বিক্রি করছেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের RSI প্রথমবার গভীর ‘ওভারসোল্ড’ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যা পতনের তীব্রতা নির্দেশ করে।

স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি

বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫,৪৮২ টাকা কমিয়ে দিয়েছে, এবং একই সঙ্গে ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনা ও রুপার দামও হ্রাস পেয়েছে। এই নতুন দাম ৩১ অক্টোবর সকাল ১০ টা থেকে কার্যকর হয়েছে; পূর্বে ৩০ অক্টোবরও সোনার দাম কমানো হয়েছিল, ফলে দুই ধারাবাহিক দিনে দাম হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রযুক্তি খাতের শেয়ার দরপতনের ফলে স্বর্ণসহ অন্যান্য নিরাপদ সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হতে পারে, যা মার্জিন কলের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম পুনরুদ্ধার হবে। অন্যদিকে, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো সাদা ধাতুগুলো স্বর্ণের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমর্থন পায় না, ফলে তাদের দাম দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিচু থাকতে পারে।

এই তথ্য দেশ রূপান্তর ও বাংলা ট্রিবিউন উভয়ই অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে।