মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইরান সম্পর্কিত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন সিদ্ধান্ত শিগগিরই নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে: নতুন সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, অথবা তেহরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়ে সমঝোতা করা।

বৈঠকের পর ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নেব" এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং কিছু অর্থ মুক্তি দেবে, এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)কে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, এরপর পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি মস্কোর ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে সাতটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রস্তুত করছে, তবে এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা পায়নি।

মার্কিন নৌবাহিনীর তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী USS থিওডোর রুজভেল্টের স্ট্রাইক গ্রুপ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে এখনও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও মার্কিন শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়েছে, নাসডাক সূচক ৫.৫% কমেছে।

ইরান যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে, তবে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অপেক্ষমাণ।

ইত্তেফাকও জানিয়েছে যে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন।