আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) দেশে মোট ২ হাজার ১৭১ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। গשת বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ২ হাজার ৮০৮ জন ছিল।

মাসানুসারি পরিসংখ্যান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে নির্যাতনের শিকার নারীর সংখ্যা যথাক্রমে ১৮৩ জন করে, মার্চে ১৯০ জন, এপ্রিলে ২২০ জন, মে মাসে ২৫৯ জন এবং জুন মাসে বছরের সর্বোচ্চ ৩৩৩ জন নারী ও কন্যা সহিংসতার শিকার হন। জুলাই মাসে কিছুটা কমে ২৯৯ জন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ২৫২ জন করে শিকার হয়েছেন।

ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ

জুন মাসে মোট ১০০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন, যাদের মধ্যে ৭২ জন কন্যাশিশু। এদের মধ্যে ৫২টি সাধারণ ধর্ষণ, ১২টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৭ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। জুলাই মাসে ৭৫ জন ধর্ষণের শিকার হন, যাদের মধ্যে ৪৫ জন কন্যাশিশু।

হত্যা ও অন্যান্য সহিংসতা

জুলাই মাসে ৫০ জন (৩৯ নারী ও ১১ কন্যা) এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৫২ জন (৩৯ নারী ও ১৩ কন্যা) নারী ও কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে। জুন মাসে ২৯ জন সাইবার উত্ত্যক্তকরণের শিকার হন, যাদের মধ্যে ১৭ জন কন্যাশিশু। সেপ্টেম্বর মাসে একটি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন এবং সাতটি বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নৈতিক অবক্ষয়কে এর কারণ বলে মনে করছেন।