ঢাকা পোস্ট অনুসারে, রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাত বছর আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান রোববার (২৫ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করেন এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করেন। ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগের একটি ভাড়া বাসায় মিজান তার স্ত্রী রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে মিজান ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন। রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠালেও বাকি টাকার জন্য রেহানাকে আবারও মারধর করা হয়। পরদিন ২৬ জুলাই রেহানার বড় ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তদন্তকারী এসআই মো. আক্কাস মিয়া অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল রায়ে মন্তব্য করেন যে আসামির বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি এবং যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। রায়ে আরও বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে এবং আসামি চাইলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
চ্যানেল ২৪-ও একই ঘটনার খবর দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। বিয়ে প্রায় ১১ বছর আগে (২০১৯ সালের হিসাব থেকে) শরীয়ত অনুযায়ী হয়েছিল এবং তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রেহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত।







