বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপিকে লক্ষ্য করে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, জুলাই ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন করে সাত মাসের বেশি আলোচনার পর বেশির ভাগ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালে অংশীদেররা সনদে স্বাক্ষর করে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি দুটি ভোট একই দিনে আয়োজনের দাবি করেছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটি মেনে নিয়েছিল। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিল, কিন্তু বিএনপি ‘না’ ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে এবং একে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। বিএনপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে রেখেছে, কিন্তু এখন সেসব বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়নি, সেগুলোও এড়িয়ে চলা হচ্ছে। বিএনপির সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে সমঝোতা করতে হলে জামায়াতের সঙ্গে কমিটিতে বসতে হবে।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জামায়াত জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, উপযুক্ত খাবার খেয়ে ঠান্ডা মাথায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ ঘিরে ষড়যন্ত্র না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যৌথ লংমার্চের কাফেলা যেভাবে চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল, এবারও তারা জনগণের জন্য একইভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী বক্তব্য রক্ষা করেছেন।







