আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সরকারি ও বিরোধী দলের। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা। গত সংসদ নির্বাচনেও আ.লীগের ভোট টানার চেষ্টার অভিযোগ ছিল পরস্পরের।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির নেতাদের একটি অংশ এখনো পলাতক। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভোটারদের কারা টানতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা টানাটানি-ঠেলাঠিলা হয়েছিল গত সংসদ নির্বাচনের আগে। আবার সেই হিসাব-নিকাশ সামনে আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী ২১ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। ২৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন। বিএনপির নেতাদের আশঙ্কা, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে জামায়াত।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এবার আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এক হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আমরা এটা দেখছি। স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও এটা বুঝতে পারছেন।'
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে দলটি বলছে, বিএনপি বরং ভোটে জিততে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, 'আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন।'
এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখার অভিযোগ করেন। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারাই ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছেন। আপনার দলের অভ্যন্তরের যারা দিল্লির ভরণ-পোষণ পেয়েছে, আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকেছিল, দিল্লির প্রেম তাদের থেকে যায়নি, তাদের সাথে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ঠিকই আছে।'
এনসিপির নেতারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ করে আসছেন। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি স্বৈরাচারের দোসর। তারা দেশে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। গুম, খুন, আয়নাঘর এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে আওয়ামী-সংশ্লিষ্ট যাঁদের বিরুদ্ধে গুম, খুন, ফ্যাসিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই, তাঁরা এনসিপির সমর্থনে নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।'
সূত্র: আজকের পত্রিকা







