মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর ও মজবুত, উন্নয়ন অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা শহরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে মার্কিন দূতাবাস ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত “Powering Bangladesh’s Next Growth Chapter: A Pathway to Energy Security and Stability” শীর্ষক সেমিনারে মাহদী আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেমিনার শেষে তিনি ৩০তম US Trade Show ২০২৬ এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে শিক্ষা, পর্যটন ও মানুষে মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত কর্মসংস্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

বর্তমানে ৫০টিরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে, এবং সরকার নীতিগত ধারাবাহিকতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে চায়।

পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, এবং গম, সয়াবিন ও স্ক্র্যাপ মেটালের আমদানির চাহিদা বাড়ছে।

শক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানির সাথে সফল অংশীদারিত্ব রয়েছে, যেমন শেভরন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন, এক্সিলারেট এনার্জি FSRU পরিচালনা। সরকার গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

মাহদী আমিন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, নিয়মনীতি সংস্কার ও অর্থনৈতিক উদারীকরণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য ব্যবসায়িক সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী তেরক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং তৃণমূলের কাছে সুবিধা পৌঁছাতে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও বৃত্তি বাড়ানোর জন্য গঠনমূলক আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে গভীর সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করেছে।

মার্কিন দূতাবাস ও অ্যামচ্যাম বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ আরও মার্কিন কোম্পানিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

সেমিনারে শেভরন বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট ও MD মিস শু শিয়াং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ড. এম. মাশরুর রিয়াজ, GE Vernova Asia GM সারতাজ ভূঁইয়া, এক্সিলারেট এনার্জি কান্ট্রি ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, BSRM গ্রুপ MD আমীর আলি হোসেন এবং BUET ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

সুতরাং, দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, এই সেমিনার ও US Trade Show বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।