বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর ধরে ৩১৮টি বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্যবাহী কনটেইনার জমা রয়েছে। কিছু কনটেইনার জরাজীর্ণ হয়ে গেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

পোর্ট কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে কনটেইনার সরানোর জন্য; আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্তে কনটেইনার সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০২০ সালে লেবাননের বৈরুত বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে দুই শতাধিক মানুষ মারা যায়, যা বিশ্বব্যাপী বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণে উদ্বেগ বাড়ায়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রাসায়নিক বিস্ফোরণে চার শ্রমিক আহত হন, ২০২২ সালে ব্যাটারিবাহী কনটেইনারে আগুন লাগে, একই বছরে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডবাহী কনটেইনারে বিস্ফোরণে ৫০ জন প্রাণ হারান।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১৮টি কনটেইনার কাস্টমসকে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে কনটেইনারগুলো এখনো বন্দরের অভ্যন্তরেই রয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বন্দর স্থানের অভাব এবং বিপজ্জনক কনটেইনারের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়; তাই কনটেইনার সরিয়ে বন্দরকে ঝুঁকিমুক্ত করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কাস্টমস পর্যায়ক্রমে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কনটেইনার সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ক্রয়নীতি ও দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজটি সম্পন্ন হবে।