কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত রোববার ইরানকে আট মাসের যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য একটি নতুন সাত‑দিনের শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সমকাল অনুসারে, ইরান এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো নমনীয়তা দেখাবে না।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, দোহা কোনো সুনির্দিষ্ট অফার দেয়নি, কেবল অগ্রহণযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করেছে। তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রস্তাবের বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এখনও সুযোগ দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম আলোচনার শুরুতেই অন্তর্ভুক্ত রাখতে চায়, তবে তেহরান দাবি করে যে মার্কিন অবরোধ ও তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রথমে সম্পন্ন হতে হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের কাছে গোপন চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্ট করেছে; তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নির্দেশ অস্বীকার করে, তিনি কেবল চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাঙ্কারে মাইন বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, এবং একই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন ইরানীয় সামুদ্রিক রক্ষা ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে জব্দ করা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে।
ইরানের সাধারণ মানুষ আট মাসের যুদ্ধে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে; সমকাল জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম ১২১.৮% এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৭৩.৬% পৌঁছেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্য ও অর্থনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে জরুরি পণ্য সরবরাহ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কিন অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫,০০০‑এরও বেশি সংস্থার গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে; ২০২৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ জুনের মধ্যে এই সংস্থাগুলো চীন, রাশিয়া ও জার্মানি থেকে রকেট প্রোপেল্যান্ট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জামসহ ভারী ট্রাক আমদানি করেছে।
এই তথ্য সমকাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপিত।






