আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবরোধ জারি রেখে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। হেবরন শহরে অন্তত ২ হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান ও তল্লাশির কারণে ২ হাজার ২০০ মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজও সরকারি সাক্ষাৎকারে প্রায় ২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। চ্যানেল আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিসির ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও হেবরনে শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
গত শুক্রবার ফিলিস্তিনের দুজন বন্দুকধারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, যেখানে দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই দুজন হামলাকারীও নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তীরে শত শত অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত পশ্চিম তীরে 'পূর্ণাঙ্গ অবরোধ' জারির নির্দেশ দেন।
মেয়র আল-জাবারি জানান, হেবরনের বাসিন্দারা শহরে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার শহর থেকে বের হতেও পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সেনারা, ফলে প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই পাননি তারা। আল জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টের কাছে ইসরায়েলি সেনারা শব্দবিস্ফোরক গ্রেনেড ছেড়েছিল।
গত শনিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্তত ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অভিযানের লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর মধ্যে উত্তরে জেনিন ও নাবলুস, মধ্যাঞ্চলে রামাল্লা, আল-বিরেহ, বিরজেইত ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং দক্ষিণে বেথলেহেম রয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে প্রায় ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় জেনিন গভর্নরেটের কয়েকটি শহরে অভিযানে দুজন আহত হন, আর জেনিনের দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুটি ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
আজ রোববার ভোরে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হেবরনের উত্তরে হালহুল এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ছেড়া কাঁদানে গ্যাসে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু। রোববার ভোরে দেওয়া একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার ইসরায়েলের নির্বাচনের দিন পশ্চিম তীরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব সীমান্তপথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
ফিলিস্তিনের কিছু অংশের শাসনভার সামলানো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের পদক্ষেপকে 'সমষ্টিগত শাস্তি' বলে অভিহিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, দখলদার বাহিনীর অভিযান কেবল আরও ক্ষোভের জন্ম দেবে।
হেবরন শহরে প্রায় ২ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন এবং হেবরন গভর্নরেটজুড়ে বাস করেন আরও প্রায় ৬ লাখ মানুষ। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় গভর্নরেট। হেবরনভিত্তিক অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসা আমরো আল জাজিরাকে বলেন, হেবরন গভর্নরেটের প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং শহরের ভেতরে কারও লুকিয়ে থাকার মতো নিরাপদ জায়গা নেই।
আল জাজিরার পশ্চিম তীরবিষয়ক সংবাদদাতা নুর ওদেহ মন্তব্য করেছেন, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিনিদের হামলার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদ পার্টি পিছিয়ে রয়েছেন। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি উত্তর দেননি, পরিবর্তে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি 'বড় চমক' অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে, ইরান মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে মার্কিন সরকারি কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, একটি বিমানঘাঁটি ও কয়েকটি তেল স্থাপনায় সাতটি 'বিশেষ সামরিক অভিযান' চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো এসব দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।






