প্রথম আলো জানিয়েছে, রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসব রুটে ৭৮০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি রুটে চলবে শুধু নন-এসি বাস এবং দুটি রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ও নন-এসি বাস চালানো হবে।
রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যিনি পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী। উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। সংস্থাটির সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে পুরোনো বাস দিয়েই এই সেবার যাত্রা শুরু হবে এবং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছয়টি কোম্পানিকে।
রুট ও কোম্পানিভিত্তিক বিবরণ
ডিটিসিএর সূত্র অনুযায়ী, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬.৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন বাস কোম্পানি। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৭.১৮ কিলোমিটার রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত ২৪.৪৯ কিলোমিটার রুটে ৭০টি বাস পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ।
এছাড়া ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ২৫.৫ কিলোমিটার রুটে ১৫০টি বাস চালাবে ফোর স্টার বাস লাইন এবং ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রুটে ১৯০টি বাস পরিচালনা করবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। অন্যদিকে টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২২.৮৯ কিলোমিটার রুটে ২০টি এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার পরিচালনাকারী কোম্পানি হিসেবে ‘ঢাকা চাকা’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে চাই। একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলবে—এটা প্রথমে নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরো ধারণা শুরুতেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও প্রাথমিকভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গত ৮ অক্টোবরের এক বৈঠকে রাজধানীর বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন বা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে ডিটিসিএর পক্ষ থেকে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বিদ্যমান ৯৮টি বাসের পথ পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি করা হবে এবং প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বাস চলবে।
পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরোনো বাস দিয়ে এভাবে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু করে প্রকৃত রুট রেশনালাইজেশন সম্ভব নয়; এর জন্য স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা, বিশেষ বাস এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পুরোনো বাস ও বিদ্যমান মালিকদের একটি রুটের মধ্যে এনে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে নতুন বাস আনার চেষ্টা চলছে।







