ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকের মজুরি পাওয়ার প্রশ্নের মুখে রাজপথে বিজিবি নামিয়ে সরকার কাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তা পরিষ্কার। তিনি অবিলম্বে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানান।
ঢাকা পোস্ট জানায়, নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজপথে রয়েছেন। ২০২৩ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১২,৫০০ টাকা করা হয়েছিল, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে অপ্রতুল। আন্দোলন দমনে পুলিশ ও বিজিবির লাঠিচার্জে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া সম্প্রতি সরকার গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডকে তিনি আন্দোলন থামানোর কৌশল হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, পোশাক খাতের এই আন্দোলন ও অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ডিসেম্বরের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। সরকার এই ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে।
ঢাকা ট্রিবিউনের তথ্যানুযায়ী, রোববার সাভার, গাজীপুর এবং রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চলমান অসন্তোষের কারণে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোর ৫২৯টি কারখানার কাজ বন্ধ ছিল এবং প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। ঢাকার মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় দোকানপাট, যমুনা ব্যাংকের একটি শাখার কাঁচ এবং মেট্রো রেলের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।







