প্রথম আলো অনুযায়ী, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্বে নির্বাচিত মেয়র শাহীদাত হোসেনকে একই কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে সরকার নিয়োগ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে, যা ২৫ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত, উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত, তিনি ধারার ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে যে তিনি বিধি অনুসারে মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নিয়োগের পূর্বে, মার্চ মাসে একই বিভাগে তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল, তবে তখন কোনো আদেশ জারি হয়নি।
পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রথম আলোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩,৬৯,২৪৮ ভোটে জয়ী হন, আর শাহীদাত হোসেন ৫২,৪৮৯ ভোট পেয়েছিলেন। শাহীদাত ফলাফল বাতিলের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১-এ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছর ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমিন শাহীদাতের মামলায় রায় দেন, রেজাউল করিমের নির্বাচিত ঘোষণাকে বাতিল করে শাহীদাতকে মেয়র ঘোষণা করেন এবং ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেন। ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহীদাতকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে, এবং ৩ নভেম্বর তিনি শাহীদাতকে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ঢাকা টাইমস, ইত্তেফাক, চ্যানেল ২৪ এবং আজকের পত্রিকা সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোও একই তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যদিও কিছু প্রতিবেদনে শাহীদাতের নামের আগে “ডা.” উপাধি যুক্ত করা হয়েছে। সব সূত্রই উল্লেখ করেছে যে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ধারার ৪ অনুযায়ী তিনি কর্পোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।





