বাংলা ট্রিবিউনের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার স্বঘোষিত সময় যত এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক ততই জোরদার হচ্ছে। ২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও দলটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামেনি।

উক্ত বিশ্লেষণে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের সাধারণ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ বাদ পড়লেও পরবর্তীতে বিএনপির জয়লাভের পর দলটি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ বাড়ছে। গত ১৯ অক্টোবর রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে জামায়াত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো দাবি করেছে যে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেই ক্ষমতায় এসেছে। যদিও বিএনপির আট মাসের শাসনামলে এমন সমঝোতার কোনো প্রমাণ দেখা যায়নি বলে বাংলা ট্রিবিউন উল্লেখ করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত অংশ নিলেও বিএনপি তা বর্জন করেছিল। আবার ১৯৯১ সালে জামায়াতের ১৮ জন প্রার্থীর সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ২০০১ সালে দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে সরকার পরিচালনা করে। এর আগে ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একযোগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো— শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, দলীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি ও মামলা নিষ্পত্তি করা।

অন্যদিকে ঢাকা টাইমস ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে একটি স্থানীয় পত্রিকার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম বলেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন, তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অবশিষ্টাংশও শেষ হয়ে যাবে। সারজিস আলম মন্তব্য করেন, গণঅভ্যুত্থানে স্বজন ও অঙ্গ হারানো মানুষের তীব্র ক্ষোভ রয়েছে এবং ডিসেম্বরে দেশে শেখ হাসিনার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া গেলে গত বছরের ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি হতে পারে।

ঢাকা টাইমস ও ঢাকা পোস্ট সূত্রে আরও জানা যায়, এনসিপি নেতা সারজিস আলম জানিয়েছেন যে জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধী দলীয় জোট বহাল থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে নির্বাচন করবে। ইতোমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সারজিস আলম আরও দাবি করেন, গত আট মাসে বিএনপির আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় দলটির জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে।