ভোলা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথে গতকাল বুধবার দুপুরে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে থাকতে দেখা যায় যুবক নয়ন খানকে, যিনি ভোলার মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ চালু করার দাবি জানাচ্ছেন। তিনজন সহযোদ্ধা তার পাশে বসে সমর্থন জানায়।
নয়ন খান জানান, ২৬ অক্টোবর রাতে অসুস্থ বাবাকে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় বাবাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে তিনি ২৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন দুপুরে হাসপাতালে সামনে প্ল্যাকার্ড ধরে অবস্থান করছেন এবং পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
নয়ন খান বলেন, “আট দিন ধরে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসলেও কর্তৃপক্ষ আজও আমার কাছে আসেনি। তারা কেউ জানতেও চায়নি আমি কেন এ কর্মসূচি পালন করছি।”
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স আইয়ুব এবং নাজিউর রহমান কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. তানজিল শরীফও তার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাহফুজুর রহমান বলেন, “নয়নের এ দাবি তাঁর একার নয়। এটা ভোলাবাসীর দাবি। তাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেখে ঢাকা থেকে ভোলায় এসে নয়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী জানান, পাঁচ বছর আগে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হলেও জনবল সংকটে তা চালু হচ্ছে না।
ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আরাফাতুর রহমান জানান, আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বরিশাল ও ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকের জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও এমন হচ্ছে।
ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. তৈয়বুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাঁকে ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী আজকের পত্রিকা রিপোর্ট করেছে।







