আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর তালেবান সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বিতর্কিত ভারতীয় ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক তিনটি দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানের প্রকৃত পরিস্থিতি গণমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর মতে, উপযুক্ত নারী শিক্ষক না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ স্থগিত রাখা কোনো সমস্যা নয় এবং এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় সাময়িক পদক্ষেপ।

বিশিষ্টজনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

জাকির নায়েকের এই যুক্তির কড়া জবাব দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নির্বাসিত আফগান সংসদ সদস্য মারিয়াম সুলাইমানখিল ব্যঙ্গ করে বলেন, জাকির নায়েকের যুক্তি অনুযায়ী আফগান মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত নয়, তারা নারী শিক্ষকের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু সেই নারী শিক্ষকদেরই কাজ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই বিষয়টিকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকটের দোহাই দিয়ে নারী শিক্ষাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার পক্ষে এমন যুক্তি নারী নির্যাতনের শামিল। ভারতীয় ইতিহাসবিদ রুচিকা শর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারী শিক্ষার ওপর এই ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা না করে একে বৈধতা দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে ২৬ লাখের বেশি কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নারী ও মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনেও জাকির নায়েকের এই বক্তব্য এবং মারিয়াম সুলাইমানখিলের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি তালেবানের সিদ্ধান্তকে 'অসাধারণ যুক্তি' বলে ব্যঙ্গ করেছেন।