সৌদি আরবের রিয়াদে গত ১০ আগস্ট একটি সোফা কারখানায় ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী জেলার শ্রমিক রয়েছেন বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মোহাম্মদ শামীম হোসেন (৩০) ও একই ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির আহমেদ (২৮) — এই দুজনের মরদেহ ৮২ দিন পর আজ শনিবার দেশে ফেরত হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছিল; কিন্তু শনাক্তি না হওয়ায় শামীম ও সাব্বিরসহ নয়জনের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার পর আজ শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো হয়েছে। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে সাতজনের মরদেহ শনিবার সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা আছে।
প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, শামীম ২০১৬ সালে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি যান। পাঁচ বছর দেশে থাকার পর বিবাহ করেন এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে গর্ভবতী স্ত্রী মিতু খাতুনকে রেখে আবার সৌদি যান। মেয়ে জন্মের পর তিনি প্রতিদিন ভিডিও কল করে কন্যাসন্তানকে দেখতেন এবং আগামী রোজার ঈদে দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। স্ত্রী মিতু খাতুন প্রথম আলোকে বলেছেন, "স্বামীর সঙ্গে আমার মাত্র কয়েক মাসের সংসার। ছাপা (একমাত্র মেয়ে) পেটে আসার কয়েক মাস পর সে চলে যায়। ছাপার জন্মের পর সে (শামীম) প্রতিদিন অন্তত দুবার ভিডিও কলে কথা বলত।"
আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, নওগাঁ জেলার পাঁচ প্রবাসী — নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী — ও নাটোরের দুজন শামীম ও সাব্বির হোসেন, মোট সাতজনের মরদেহ শনিবার সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। প্রথম আলো নওগাঁর পাঁচজন ও নাটোরের দুজন নিহতের কথা উল্লেখ করলেও রাজশাহীর নিহতদের নাম বা সংখ্যা স্পষ্ট করে নিয়েছে না।
শামীমের পিতা জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, "আমার ছ্যালিডা খুব বেশি পুড়ি গিছে। ওকে চেনার উপায় নাই। তবু ওর দাফন–কাফন করতে পেরে শান্তি পাইছি।" সাব্বিরের পিতা গোলাম রাব্বানী জানান, ছেলে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সৌদি যান এবং আড়াই বছর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তিনি আগামী ঈদে ছেলে ফেরলে পুত্রবধূকে বাড়িতে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন।
দুই মরদেহ শনিবার দুপুরে নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় ও খাজুরা গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ ছায়া পড়ে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দুজনের দাফন করা হয়েছে। জানাজায় নলডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে আপাতত ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং তিন মাস পর প্রতিটি পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর।







