দেশের আটটি ভেন্যুতে ২৫ হাজার ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রবি বোলার হান্টের চূড়ান্ত পর্বে ২১ জন বোলার নির্বাচিত হয়েছেন। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ধাপের বাছাই, জাতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিতদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও সাতজন নারী বোলার রয়েছেন।
নতুন প্রজেক্টের ঘোষণা
বিজয়ীদের পরিচয় প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল খান দেশের ক্রিকেট নিয়ে নতুন উদ্যোগের আভাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ক্রিকেট বোর্ড এমন একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি, যেটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করব। উদ্যোগটি দেশজুড়ে অনেক ক্রিকেটারকে প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।’
গতকাল সন্ধ্যায় মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিসিবির সহযোগিতায় এবং রবি আজিয়াটা পিএলসির অংশীদারত্বে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে শুরু হয় বাছাই কার্যক্রম, এরপর খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুটি ভেন্যুতে প্রতিভা অন্বেষণ করা হয়।
প্রাথমিক বাছাইয়ে ২৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ১৪৩ জনকে পরবর্তী পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৭ জন পেসার ও ৮৬ জন স্পিনার ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ৪২ জনকে রাখা হয় চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য। পরে অভিজ্ঞ কোচ ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে ২১ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বাছাই কার্যক্রমে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, কোরি কলিমোর ও দিপু রায় চৌধুরী।
নির্বাচিত বোলারদের দায়িত্ব নেবে বিসিবি। হাই পারফরম্যান্স বিভাগের অধীনে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে। শুরুতে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাঁদের। পরবর্তী সময়ে যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে উপযুক্তদের মূল হাই পারফরম্যান্স কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এবারের আসরে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে নয় বছর বয়সী সাইফ ও ১২ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার শোয়েব। নির্ধারিত বয়সসীমা ১৬ বছর হলেও ব্যতিক্রমী প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে তারা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গতিতে বল করে আলোচনায় আসা আবিদকে ইতোমধ্যে ডি থ্রি ট্রফির ফ্র্যাঞ্চাইজি একমি গ্রুপ দলে নিয়েছে।
রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা জানান, দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসতে পারেন। তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে বিসিবির সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। এর আগে রবির পৃষ্ঠপোষকতায় বিসিবির পেস ও স্পিন বোলিং হান্টের মাধ্যমে এবাদত হোসেন ও রিশাদ হোসেনের মতো ক্রিকেটারদের প্রতিভা সামনে এসেছিল।






