প্রথম আলো অনুযায়ী, আসামের ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জে প্রায় ৭৫০টি বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল রোববার ৯ নম্বর ব্লকের প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমি থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

অভিযানে প্রায় ৬০টি বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। আসামের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা আইজিপি অখিলেশ কুমার সিং ও ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ অভিযান তদারকি করেন।

দিবাকর নাথ জানান, মোট ৮০০ বিঘা জমিতে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। আদালত-সংক্রান্ত বিষয় বিচারাধীন থাকায় অবশিষ্ট ১৫০ বিঘা জমিতে এখনই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। জমিটি শিল্প বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে দুই বছর ধরে পরিকল্পিত একটি শিল্পপার্ক তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়।

দিবাকর নাথের দাবি, এখানকার বাসিন্দারা বিভিন্ন ধাপে জমিটি জবরদখল করেছিলেন এবং তাঁদের অনেকেরই অন্য জায়গায় বিকল্প জমি রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আশি বছর বয়সী বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির জানান, ১৯৬২ সালে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ও বন্যায় ভিটেমাটি হারিয়ে তিনি গোয়ালপাড়া থেকে এখানে এসেছিলেন। তিনি এবং আরও অনেকে ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ‘তৌজি’ ব্যবস্থার অধীনে নিয়মিত জমির রাজস্ব দিয়েছেন।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অনেকে বিকল্প জমি না পেয়ে আত্মীয়দের বাড়ি, রাস্তার পাশের অস্থায়ী কুঁড়েঘর কিংবা নিচু চর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মসজিদ, উপাসনালয় ও কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ দরগাহ ও কবরস্থানে প্রার্থনা করেন। এ সময় একটি দরগাহ ভাঙার মুখে হঠাৎ বুলডোজার বিকল হয়ে পড়ে। এর চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আসামে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানত বাঙালি মুসলমানদের বসবাসের এলাকাগুলোতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।