প্রোগা (Knowledge for Progress) সেপ্টেম্বর ২০২৬‑এ একটি দ্রুত জরিপ পরিচালনা করে, যেখানে আটটি বিভাগের শহরের ৮০টি সিগারেট বিক্রেতা সমীক্ষা করা হয়। জরিপে ৫৩টি ব্র্যান্ড ১২টি ভিন্ন দামের পয়েন্টে বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশ পায়।
সরকারি মূল্য স্তর ও বাস্তব বাজারের পার্থক্য
ধাক্কা ট্রিবিউন অনুসারে, বাংলাদেশে সরকার চারটি সিগারেট মূল্য স্তর নির্ধারণ করেছে: লো, মিডিয়াম, হাই এবং প্রিমিয়াম। তবে ‘এবং উপরে’ শব্দের ব্যবহারের ফলে লো স্তরের দাম Tk65‑এর নিচে এবং মিডিয়াম স্তরের শুরু Tk92‑এর মধ্যে বহু দামের বিকল্প তৈরি হয়। বাস্তবে লো স্তরে আটটি ভিন্ন দামের পয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি দামের পার্থক্য মাত্র Tk2 (Tk90) ছিল মিডিয়াম স্তরের শুরু দামের কাছাকাছি।
এই পরিস্থিতিতে, দাম বাড়লে ধূমপায়ীকে ত্যাগ, কম ব্যবহার বা উচ্চ স্তরে যাওয়ার প্রয়োজন না থেকে একই স্তরের সস্তা ব্র্যান্ডে পরিবর্তন করা সহজ হয়, যা তামাক করের প্রত্যাশিত জনস্বাস্থ্য প্রভাবকে দুর্বল করে।
তামাক ব্যবহার ও করের বর্তমান অবস্থা
গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩৫.৩% প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করে, যার মধ্যে ১৮% ধূমপায়ী। WHO ২০২৫ রিপোর্টে দেশটি ২০২৪ সালের সস্তা সিগারেটের দামের ক্ষেত্রে ১৮৬টি দেশের মধ্যে ১৬৩তম স্থানে রয়েছে, যা সস্তা সিগারেটের প্রাপ্যতা নির্দেশ করে। তাছাড়া, ২০২৫ সালের সিগারেট ট্যাক্স স্কোরকার্ডে বাংলাদেশ ৫ এর মধ্যে মাত্র ১.৩৮ পয়েন্ট পেয়েছে, যা জটিল মাল্টি‑টিয়ার অ্যাড ভ্যালোর কর কাঠামোর ফল।
নীতিগত সুপারিশ
ধাক্কা ট্রিবিউনের মতে, প্রথমে ‘এবং উপরে’ শব্দটি সরিয়ে প্রতিটি স্তরের জন্য নির্দিষ্ট রিটেইল দাম নির্ধারণ করা উচিত। এরপর মূল্য স্তরের সংখ্যা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত একক স্তরে আনা, এবং নির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স (প্রতি প্যাকেট নির্দিষ্ট পরিমাণ) প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এই পদক্ষেপগুলো সিগারেটের সামগ্রিক সাশ্রয়িতা কমাবে এবং ভবিষ্যৎ কর বৃদ্ধি কার্যকরভাবে ধূমপানের হার হ্রাসে সহায়তা করবে।
এই বিশ্লেষণ ধাক্কা ট্রিবিউনের মতামত বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে।



