জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের কোনো করুণা বা অনুদানের প্রয়োজন নেই; বরং বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একাত্তর টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ অ্যাট কপ-৩১: ফ্রম ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ টু গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’ (এপিএফ) আয়োজিত ও ‘ইয়ং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন।
চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৪৭ শতাংশ হলেও প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণের দায় বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে বরগুনা ও খুলনায় নদীর পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে, যা কৃষি ও মৎস্যসম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি প্রতিবছর বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও বসতভিটা পানিতে ভেসে যাচ্ছে।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিফ হুইপ আরও বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো বিশ্বে সংঘাত ছড়ায়নি বা অস্ত্র তৈরি করেনি। তিনি জলবায়ু তহবিলের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে অহেতুক জটিলতা দূর করে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান। আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার ও তরুণদের ঐক্যবদ্ধ দাবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।
একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুসান ভাইজ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ারত্নে উপস্থিত ছিলেন।







