ইনকিলাবের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, আইন শাসন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রীর সমতুল্য) ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ ৭ নভেম্বর সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় জাতীয় স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ইসমাইল জবিউল্লাহ উল্লেখ করেন যে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি স্থাপিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন মডেলকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে, জবিউল্লাহ শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দেন। তিনি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ কর্মশক্তি রপ্তানিতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার মন্তব্যে তিনি তাদের অর্থনৈতিক অবদান ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতিনিধিত্বকে তুলে ধরে, তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৭ নভেম্বরের তাৎপর্যকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম সভার সভাপতিত্ব করেন। তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে, দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জবিউল্লাহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিউলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা।

আলোকিত বাংলাদেশ অনুসারে, একই দিনে (৭ নভেম্বর) রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু (যিনি আলোকিত বাংলাদেশে 'ভূমিমন্ত্রী' হিসেবে উল্লেখিত) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ১৯৭১ের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত দেশের ঐক্যের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে, দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন মডেলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

বার্তা২৪ ও ঢাকা পোস্টের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনগুলোও ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানায়।

এই সব তথ্য ইনকিলাব, বাসস, আলোকিত বাংলাদেশ, বার্তা২৪ এবং ঢাকা পোস্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংকলিত।