চ্যানেল আই অনুসারে, জাপানে বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কোনো সরকারী চুক্তি নেই। ২০২৫ সালের মে মাসে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো‑অপারেটিভস (এনবিসিসি) এর চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা পাঁচ বছরের মধ্যে এক লাখ দক্ষ কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। একই সময়ে বাংলাদেশি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা গড়ে বছরে ২০,০০০ কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্দেশ করে, তবে এটি জাপান সরকারের ভিসা গ্যারান্টি নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬–২৯ অক্টোবর ২০২৬ জাপান সফরের আগে, বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় মিডিয়াতে শ্রমবাজারে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা উল্লেখ করে, যা সামাজিক মাধ্যমে জাপানের সম্মতি হিসেবে প্রচারিত হয়। তবে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো ২৯ অক্টোবর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জাপান সরকার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নিতে কোনো ভিত্তি নেই এবং শীর্ষ বৈঠকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমান সহযোগিতা ও বাস্তব সংখ্যা

দুই দেশের মধ্যে ২০১৯ সালে দক্ষ কর্মী নিয়ে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, এবং ১৭ অক্টোবর ২০২৬ আরেকটি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন কাঠামোতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে, তবে এতে কোনো বাধ্যতামূলক কোটা নির্ধারিত হয়নি। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জাপানে গেছেন মাত্র ৫,১৪১ জন বাংলাদেশি, আর ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আইএম জাপার কর্মসূচির মাধ্যমে ৭০২ জন গেছেন।

সারসংক্ষেপে, জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য তিনটি পৃথক বিষয়ের (প্রাইভেট সেক্টরের পরিকল্পনা, বাংলাদেশের লক্ষ্য, শীর্ষ বৈঠকের ঘোষণার অভাব) একত্রে প্রচার থেকে উদ্ভূত বিভ্রান্তি, এবং বাস্তবে কোনো সরকারী বাধ্যবাধকতা নেই।

চ্যানেল আই অনুসারে, ভবিষ্যতে লক্ষ্য অর্জনের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও নিয়োগদাতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রয়োজন।