প্রথম আলো প্রকাশিত এক লেখায় লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক ফিরোজ আহমেদ বাংলাদেশের সংবিধানের দর্শন ও কার্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ফল হিসেবে গৃহীত এই সংবিধান দর্শনগতভাবে অগ্রসর হলেও কার্যপ্রক্রিয়ার দিক থেকে ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে।
গণপরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উদ্ধৃতিতে লেখক জানিয়েছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে এমনভাবে রচিত হয়েছে যেমন ১৯৬২ সালের পাকিস্তানের সংবিধান আইয়ুব খানকে কেন্দ্র করে ছিল। একইভাবে মানবেন্দ্র নারায়ণ লার্মা বলেছিলেন, সংবিধান এক হাতে অধিকার দেয় এবং অন্য হাতে সেটা কেড়ে নেয়।
লেখক বিশ্বজুড়ে চলমান তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান বন্দোবস্ত তরুণ সমাজের সম্ভাবনা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণ উদ্যোক্তা, পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের সম্ভাবনা বিকশিত করার যথেষ্ট পরিসর দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা করে লেখক বলেছেন, ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ জরুরি। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক সরকার ও আমলাতন্ত্র এই সংস্কারে আগ্রহী হতে পারে না।
ফিরোজ আহমেদ মনে করছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর তৃণমূল থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার অপসারণ হয়েছে। কিন্তু সংস্কার না হলে রাষ্ট্র ও তরুণদের সংঘাত বৃদ্ধি পাবে, যা দঙ্গলবাজির সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে পারে অথবা প্রগতিশীল আন্দোলনের বিকাশ ঘটাবে।







