আজকের পত্রিকা জানাচ্ছে যে, দরুদ শরিফ পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে সুরা আহজাব (৫৬) তে আল্লাহ নবীর ওপর রহমত অবতীর্ণ করেন এবং ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করেন। সুতরাং মুমিনগণকে তাঁর প্রতি দরুদ পড়তে ও সালাম পাঠাতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

দরুদ ফারসি শব্দ, যার অর্থ শুভকামনা বা কল্যাণ প্রার্থনা। নবীজির প্রতি শুভকামনা প্রকাশ করাকে দরুদ বলা হয়। দোয়া কবুলের শর্ত হিসেবে দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত ওমর ফারুক (রা.) বলেছেন, দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও জমিনের মাঝখানে আটকে থাকে, যতক্ষণ না নবীজির ওপর দরুদ পড়া হয়।

সুনানে নাসায়ি ও জামে তিরমিজি হাদিসে বলা হয়েছে যে, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ দশবার রহমত বর্ষণ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করেন। কিয়ামত দিবসে যিনি বেশি দরুদ পড়েন তিনি নবীর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকবেন। হাদিসে আরও বলা হয়েছে যে, নবীর নাম উচ্চারিত হলে দরুদ না পড়লে কৃপণ ও দুর্ভাগা হন।

সাধারণত যেকোনো সময় দরুদ পড়া যায়, তবে বিশেষ কিছু সময়ে দরুদ পাঠ করতে হয়, যেমন দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে এবং চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহুদের পর; মসজিদে প্রবেশের সময়; মদিনায় রওজা জিয়ারতের সময়।

দরুদ পাঠের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি, অফুরন্ত সওয়াব এবং পরকালে রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত লাভ করতে পারেন।