ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে সমঝোতার কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোনো ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। খবরটি রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের শর্ত পূরণ হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কাতারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে নতুন যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চিঠি তারা পর্যালোচনা করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরান আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক উপায়েই সংকট সমাধান করতে চান। তবে ট্রাম্পের এক বক্তব্যে ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়সহ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইওয়া অঙ্গরাজ্যের এক জনসভায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি নেতাদের হত্যার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনী হয়তো কিছুটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও নেতা প্রাণ হারান। জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল সেই যুদ্ধ শেষ করছে।