প্রথম আলো অনুযায়ী, ইরান সতর্ক করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা হলে যুদ্ধ আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এই সতর্কতা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দিয়েছেন।
আকরামিনিয়া বলেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কী শর্তে এর সমাপ্তি ঘটবে তা নির্ধারণের অধিকার থাকবে না। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়।
এর পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো লেবানন ও ইয়েমেনে লড়াইয়ে যোগ দেয়।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি যেকোনো হামলার জবাবে সমানুপাতিক, চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, যারা হুমকি সৃষ্টি করছে তারা ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের পরিধি, সময় বা পরিণতি নির্ধারণ করতে পারবে না।
একই দিনে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আগের দিনের লিখিত বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং শত্রুর ক্ষতিসাধনের জন্য বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে এবং পারমাণবিক সক্ষমতাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে, যেগুলো মাত্র ১০ মিনিটে ধ্বংস করা সম্ভব, এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি সন্দেহজনক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন। ইরান সরকার ওই স্থানে কোনো পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায়, এবং তিনি বলেন যে তেহরানকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন নতুন কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়া করছে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, ট্রাম্প এখনো নতুন হামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, এবং অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা রয়েছে।







