ইত্তেফাকের একটি মতামত কলামে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে ফেসবুকে, ছড়িয়ে পড়া নাটকীয় চাঁদাবাজি ও প্রতিবাদের ভিডিওর প্রবণতাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। কলামে কাওরান বাজারের একটি ভাইরাল ভিডিওর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে টিয়া রঙের কোটি পরা একজন যুবক সবজি বিক্রেতা থেকে চাঁদা চেয়ে গালে থাপ্পড় মেরে এবং পরে একজন অন্য যুবক ১১টি থাপ্পড় মেরে 'ন্যায়' বাস্তবায়ন করেন বলে দাবি করা হয়।
কলামলেখক লিখেছেন, পরবর্তীতে জানা যায় যে চাঁদাবাজও নকল, প্রতিবাদিও নকল এবং ঘটনাটিও নকল ছিল—আসল ছিল শুধু দর্শকদের রাগ এবং সেই রাগ বিক্রি করে টাকা আয়ের ব্যবসা। কলামে এই ধরনের ভিডিওকে 'সচেতনতা' না বলেই 'প্রতারণাকে জনসেবামূলক প্রকল্প' বলার উপমা দেওয়া হয়েছে।
লেখক মতে, এই ব্যবসায়িক কৌশলে সাধারণ ভিডিওতে মানুষের আগ্রহ না পেয়ে প্রথমেই থাপ্পড় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়, তারপর আবেগের তরঙ্গে ভিউ, শেয়ার ও মন্তব্য বাড়ানো হয়। এখানে সত্য, মিথ্যা, অভিনয় ও অপমান—সবকিছুর প্রতিযোগিতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায় মানুষের মনোযোগ কতক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব।
কলামে প্ল্যাটফর্ম-অর্থনীতির ভূমিকাও ചিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে মনোযোগই মূলধন। প্ল্যাটফর্মের কাছে এই মনোযোগ ব্যবসার সম্পদ, নির্মাতার কাছে আয়ের সুযোগ এবং দর্শকের কাছে বিনোদন বা প্রতিবাদের অভিজ্ঞতা। সত্যের অবস্থান এখানে করুণ—সে যতই বলুক 'যাচাই করে দেখুন', দর্শক ততক্ষণে ১১টি থাপ্পড় দেখে ফেলেন এবং দ্বাদশটির দাবি জানান।
লেখক চেতাবনী দিয়েছেন যে, এই ব্যবসায় সমাজের সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি নয়; সমস্যার একটি আকর্ষণীয় দৃশ্য তৈরি হলেই যথেষ্ট। এতে বাস্তব অন্যায়ের শিকাররা ও আসল প্রতিবাদীদের স্থান নেয় নকল চরিত্রগুলো, যা দীর্ঘসূত্রে সমাজে বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে।







