দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দেশের বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সুশাসনের কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমছে, ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কাক্সিক্ষত ফল দিচ্ছে না।

খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির পরিস্থিতি

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) অনুষ্ঠিত এক বিশ্লেষণে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার এসব তথ্য তুলে ধরেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মূলধন অনুপাত নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

ব্যাংকের দুর্বলতার প্রভাব পড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগেও। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে কয়েক মাস বেসরকারি খাতে ঋণ-প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে ছিল, অথচ ব্যাংক আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবরে নীতিসুদ বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছিল, পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তা কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করে। তবে ২০২৬ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সংস্কারের আহ্বান

ড. জাইদি সাত্তার মনে করেন, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াও মূল্যস্ফীতির বড় কারণ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ও বাণিজ্য নীতির সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি কমানো এবং ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনের সভাপতি ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়, বিনিয়োগে স্থবিরতা, অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে করপোরেট সুশাসন জোরদার, সম্পদের গুণগত মান উন্নত করা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাড়ানো এবং ব্যাংক পুনর্গঠন ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম কার্যকরী করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ডিজিটাল আর্থিক সেবা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং টেকসই ব্যাংকিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।