সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কণ্ঠরোধের আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত একটি নাগরিক সংলাপে বক্তারা দাবি করেন, এই সংশোধনী নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় বরং মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করছে।

বক্তাদের মতামত

সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন, সংশোধনীর ফলে সাইবার সুরক্ষা আইন আদতে ‘সরকার সুরক্ষা’ আইনে পরিণত হবে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনটিকে কার্যত সরকার সুরক্ষা আইনে রূপান্তর করবে।

ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর খসড়া সংশোধনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনের মূল উদ্দেশ্য হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হলেও সরকার এটি ভিন্নমত পোষণকারীদের অপরাধী বানানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তিনি নারী ও শিশুর সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধানগুলো এই আইন থেকে সরিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও করেন।

মানবাধিকারকর্মী ড. নাবিলা ইদ্রিস ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সাইবার আইনে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের ৬৩ শতাংশই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা জাতীয় নেতাদের সমালোচনার কারণে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে কম সময়ে জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল সংবাদমাধ্যমের জন্য নয়, সবার জন্য নিশ্চিত হতে হবে।

সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সাতটি সংগঠন। সভাপতিত্ব করেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন ফাহিম মাশরুর।