সমকালের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হুতি গোষ্ঠী। এই হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পার্লামেন্ট থেকে অনুমোদন পেয়েছেন। গত সোমবার পার্লামেন্টের স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আল-সিসিকে। এ সিদ্ধান্তের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও লোহিত সাগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে মিসরের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মিসরের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন হারিদি বলেছেন, চলমান সংঘাতে কায়রোর সম্পৃক্ততা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

হুতিদের প্রতিবাদ ও সামরিক পরিস্থিতি

মিসরের সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে হুতি। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুতি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই করা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য আগ্রাসন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন ছুড়েছে, যা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক্সে এক পোস্টে এ দাবি করেছেন।

১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রিয়াদ। এএফপির বরাত দিয়ে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।