ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছে মিশরের পার্লামেন্ট। বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এই অনুমোদন চেয়েছিলেন।

হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা কেবল সৌদি ভূখণ্ডের জন্যই হুমকি নয়, বরং লোহিত সাগরকে عدন উপসাগরের সাথে যুক্তকারী কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই রুট মিশরের সুয়েজ খালে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে হুথি হামলায় বিমান চলাচল ও তেল রফতানি ব্যাহত হওয়ার পর কায়রো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও মিশর ইরানের নেতৃত্বাধীন আক্রমণ ও হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, কিন্তু সরাসরি সংগ্রামে নামেনি। প্রেসিডেন্ট সিসি স্পষ্ট করেছেন মিশরের যেকোনো সহায়তা কেবল সৌদি ভূখণ্ড ও সীমানা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে হামলা চালানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদনেও এই প্রতিরক্ষামূলক स्वरূপের পুষ্টি করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গত বুধবার মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ রিয়াদ সফর করেছিলেন। সফর শেষে আবদেলাতি জানান, কূটনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংঘাত সমাধানের প্রতিটি সুযোগ বাস্তবায়নে কায়রো সমর্থন জানায়। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা করতে কায়রো সফর করেছিলেন।

মিশর ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে আগস্টে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। মিশরীয় সামরিক সক্ষমতা ও লোহিত সাগরে এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এবং ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অভিযানে সেনা না পাঠানোর ইতিহাস মিশরকে সতর্ক রাখছে। সামরিক সহায়তার পরিমাণ শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক চাওয়া ও আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর চেষ্টার ওপর নির্ভর করবে।