বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওতে আছেন। বিবিসি বাংলা অনুযায়ী, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠক জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও চুক্তির সম্ভাবনা

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া এবং বিবিসি বাংলা উভয়েই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সফরের শেষে যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য জাপানের আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ইয়েন) বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ সিয়াম সফর পূর্বে জানিয়েছিলেন, সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতার আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশের দিক থেকে। এই বিনিয়োগ মেট্রো রেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, অটোমোবাইল, উৎপাদন খাত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও ভূ-রাজনীতি

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই সফর থেকে 'মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এফওআইপি)' উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই দেশের সমন্বয় বাড়বে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, জাপান বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) এবং ঢাকার কাছে আড়াই হাজার একর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে আগ্রহী। বাংলাদেশও ২০২৩ সালে নিজস্ব 'ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা' ঘোষণা করেছিল।

ঋণের সুদ ও EPA বাস্তবায়ন

বিবিসি বাংলা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জাপান অন্তত চার বার ঋণের সুদ বাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশে উদ্বেগের কারণ। তবুও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বড় উন্নয়ন সহযোগীদেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র জাপান ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে (প্রায় ৩৫ লাখ ডলার—এই সংখ্যা যাচাই বাকি)। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর হয়েছিল, যার আওতায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ পাবে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এই চুক্তির সুবিধা কতটা নেওয়া যায় সেটি এই সফরে স্পষ্ট হবে।

সফরের কর্মসূচি ও বিশেষज्ञ মন্তব্য

আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাইকা, জেবিআইসি, জেট্রো সহ জাপানের বড় কোম্পানি মিতসুই, সুমিতোমো, জেরা-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন, ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং সফরের শেষ দিন নাগোয়ায় টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের কারখানা দেখবেন। বর্তমানে ৩৩৮টি জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে সক্রিয় এবং তারা আগামী ১-২ বছরে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাপানি বিনিয়োগ আসলে পশ্চিমা বিনিয়োগকেও আকর্ষণ করবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান আশা व्यक्त করেছেন যে, সফরে দক্ষ জনশক্তি নির্যাতন ও প্রশিক্ষণ ওপরও জোর দেওয়া হবে।