সমকাল অনুসারে, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার জামায়াত‑ই‑ইসলামি নেতা তাইজুল ইসলামকে আপত্তিকর ভিডিওতে নারীর সঙ্গে দেখা যাওয়ার পর দলীয় সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওটি রোববার দুপুরে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুলের নিজ বাড়িতে ধারণ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়; ভিডিওটি সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশ রূপান্তর অনুসারে, ভিডিওটি সোমবার থেকে শেয়ার হতে থাকে।

শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে তাইজুলের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি কোনো ইউনিটের সভাপতি নন, তবে দায়িত্ব পালন করছিলেন; অভিযোগের পর অবিলম্বে পদত্যাগ করা হয়েছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই তথ্য পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পার্টির মন্তব্য

স্থানীয় মসজিদ ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কবিরাজি চিকিৎসার ছদ্মবেশে নারীদের বাড়িতে এনে অনৈতিক কাজ করেন তিনি; এ ধরনের অপরাধীদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।” জামায়াতের শিবচর শাখার আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা জানান, নিলখী ইউনিয়নের ওই অঞ্চলটি দূর্গম, তাই তাইজুলকে লোকেরা ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে গণ্য করত। পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে সম্প্রতি বিষয়টি জানার পর তাকে সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুর জেলার জামায়াতের জেলা আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমান বলেন, “অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো ছাড় নেই; দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও সঠিক হবে।”

পুলিশের পদক্ষেপ

শিবচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, মাদ্রাসা শিক্ষকের দ্বারা আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক হুমকি সম্পর্কে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়েছে; বর্তমানে পুলিশের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।

তাইজুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা নারী তার স্ত্রী। তবে তিনি ঘটনার পর আত্মগোপনে আছেন, সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।