বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মেঘনা‑হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়। এই ঘটনার ফলে সেক্রেটারিয়েট, বিদ্যুৎ ভবন, হাইকোর্টসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানায়, ত্রুটির পর দুপুর ২টায় ৩,১৫৪ মেগাওয়াট, ৩টায় ৩,৪৮৮ মেগাওয়াট (সপ্তাহের সর্বোচ্চ) এবং ৪টায় ২,৩৫৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। একই দিনে দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪,৭১২ মেগাওয়াট থেকে কমে ৯,৩৪৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে এবং ৫,৩৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থা

পিডিবি (Power Development Board) কর্মকর্তার মতে, কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক ও কিছু সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। বিবিয়ানা ও সামিটের কেন্দ্রসহ পিডিবির দুটি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, যা পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।

পিজিসিবি পরে জানায়, দুপুর ১২:৩০ টার দিকে গ্রিডের পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হয়; সব গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্র চালু করা হয়, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হবে। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন ও তদন্ত

প্রথম আলো ইংরেজি (Prothom Alo English) রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে, পিএলসি একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার প্রধান হিসেবে সাইদ এবাদুল্লাহ হায়দার আলি, ট্রান্সমিশন‑২ এর অতিরিক্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার, নিযুক্ত। কমিটি পরবর্তী পাঁচ কর্মদিবসে রিপোর্ট দেবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটি ঘটার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো একে একে চালু হতে শুরু করে, এবং সরবরাহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) গ্রিডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; উত্তরাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অংশে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা

ঢাকার মগবাজার, মালিবাগ, পান্থপথ, শান্তিনগর ও গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ জানিয়েছেন। শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার বলেন, দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ বারবার চলে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কাঁঠালবাগানের নাজমুল হকও সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা জানান।

উপরের তথ্য বাংলা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো ইংরেজি উভয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।