চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে সারা দেশে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫৮ জনের। এর বিপরীতে আগের বছর একই সময়সীমার মধ্যে ভর্তি ছিলেন ৭৬ হাজার ৫১৪ জন এবং মারা যান ৩০৭ জন। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে এটি হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও প্রাণহানির দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রাপ্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ৫ হাজার ৮২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছর অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যা চলতি বছরে এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির নেতৃত্বে পরিচালিত ১১৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মারা যাওয়া রোগীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হাসপাতালে ভর্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর ৬২ দশমিক ৫ শতাংশের কারণ ছিল 'ডেঙ্গু শক সিনড্রোম' এবং ৩১ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে দায়ী ছিল 'এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম'। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বিজ্ঞানভিত্তিক মশকনিধনের ঘাটতিকে দায়ী করেন, আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।