জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।
ঢাকা পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। শুনানির সময় কারাগারে থাকা এই তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউন, জনকণ্ঠ ও বার্তা২৪-ও বিচার শুরুর সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
মামলার অভিযোগপত্র ও তদন্ত সূত্রের বরাতে ঢাকা পোস্ট জানায়, নিহত মো. জোবায়েদ হোসেন (২৫) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি বংশাল এলাকার ‘রৌশান ভিলা’য় আসামি বর্ষাকে দীর্ঘদিন গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন। সেই সূত্রে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বর্ষার পূর্বের প্রেমিক মাহির বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও থাকার অভিযোগ তুলে জোবায়েদকে হত্যার জন্য মাহিরকে প্ররোচিত করে বর্ষা।
ঘটনাক্রম বর্ণনা করে ঢাকা পোস্ট আরও উল্লেখ করে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেলে পড়াতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির ও তার বন্ধু আয়লান জোবায়েদকে ভবনের নিচতলায় ঘিরে ধরে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহির সুইচগিয়ার চাকু দিয়ে জোবায়েদের গলায় আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে ওপরে ওঠার সময় তিন তলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান জোবায়েদ। এই ঘটনায় ২১ অক্টোবর জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে চলতি বছরের ৩০ জুন তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।







