অস্ত্র আইনের এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসল আসামির পরিবর্তে ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা নিরপরাধ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একাত্তর টিভি জানিয়েছে, নামের ও তথ্যের আংশিক মিল থাকার সুযোগে ভুল দণ্ড পরোয়ানায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদেশের পাশাপাশি এই অন্যায্য কারাবাসের জন্য ভুক্তভোগীকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। রিটকারী পক্ষে আইনজীবী তানভির আহমেদ (একাত্তর টিভিতে তানভির হাসান হিসেবে উল্লিখিত) জানান, কারামুক্তির পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা ট্রিবিউন ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে ঢাকার মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালে দোহারের মো. আলমাছ নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস এবং দণ্ডিত আলমাছ দুজনেরই বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার একই বাহ্রা ডাকঘরের অধীন যথাক্রমে দক্ষিণ বাহ্রা ও পূর্ব ধোয়াইর গ্রামে। নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানা সংক্রান্ত আংশিক সাদৃশ্যের সুযোগেই এই ভুলটি ঘটে।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলে বিচারিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আলমাস উক্ত মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকৃত দণ্ডিত আসামি মো. আলমাছ বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগীর কারাভোগের সময়সীমা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। একাত্তর টিভি ও প্রথম আলো আলমাসের এক বছর অন্যায্য কারাবাসের কথা উল্লেখ করলেও ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ ও বাংলা ট্রিবিউন ১০ মাসের কারাবাসের কথা জানিয়েছে।