ঢাকা ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ওয়াসা ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এই বক্তব্য দেন।

বোর্ড উচ্ছেদ ও দ্রুত অগ্রগতির নির্দেশ

প্রতিমন্ত্রী জানান, আইন সংশোধন করে সারা দেশের ওয়াসার বোর্ডগুলো উঠিয়ে দেওয়া হবে, যা উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। শহরে পানির চাহিদা বাড়ছে বলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি ১৬ ইউনিয়নের প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া পূর্বাচল এলাকায় দ্রুত পানির নেটওয়ার্ক তৈরির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে পানির বর্তমান দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ ৩১৪ কোটি লিটার। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা গতি দেখা যায়নি। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার কমিয়ে ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সারফেস ওয়াটারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুই মাসের মেয়াদ ও অন্যান্য নির্দেশনা

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই মাস পর আবার ওয়াসা ভবনে আসবেন এবং এর মধ্যে কোনো প্রকল্প পরিচালকের ব্যর্থতা পেলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। দেশ রূপান্তরের খবর অনুযায়ী, তিনি ওয়াসার কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাফেরা ও খাওয়া অনুসরণ করে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দলবাজি কম করে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে এবং চোরাই লাইনগুলো খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইনকিলাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলের পাইপলাইন সংযোগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শহরের অবৈধ পানির লাইন বিচ্ছিন্ন, বিলিং ব্যবস্থা অটোমেশন ও সিবিএ সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।