ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট চলছে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করেছে। ধর্মঘটের বিষয়টি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন নিশ্চিত করেন।

হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর সব অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে জায়গা পরিষ্কার করে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেট স্থাপন করা হয়, তবে সেখান থেকেও গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। হোসেন জানান, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলেও পুলিশের সার্জেন্ট মামলা দায়ের করেন এবং পার্কিংয়ের জন্য তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছে। পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাবে।

স্বজনদের ভোগান্তি

নরায়ণগঞ্জের মো. শাহীন জানান, তার ৭০ বছর বয়সী দাদি হালিমা বেগমকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল; তিনি মঙ্গলবার দুপুর ৩:৩০ টার দিকে মারা যান এবং তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, তার বড় ভাগিনা মো. রাসেল (২২) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে মারা যান। মরদেহের জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে একজন চিকিৎসক তাদের ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, তবে স্বজনরা গাড়ি না পেয়ে অসহায় বোধ করেন।

খুলনা থেকে আসা আব্দুল আহাদ জানান, গুরুতর আহত শাশুড়িকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে কিডনি হাসপাতালে রেফার করা হয়; তবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন।

হাসপাতালের কিছু কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, রোগী ও মরদেহকে অটোরিকশা, সিএনজি এবং পিকআপ ভ্যানে নিয়ে গেছেন। বাইরে থেকে অনেক অ্যাম্বুলেন্স আসলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে স্বজনরা হতাশ। পরিচালক ফরহাদ হোসেনকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাটি ইত্তেফাক, ইনডিপেনডেন্ট টিভি এবং চ্যানেল ২৪ সহ অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদনে একইভাবে তুলে ধরা হয়েছে; সকল সূত্রে পার্কিং দাবির জন্য ধর্মঘট এবং রোগী ও মরদেহের পরিবহনে স্বজনদের ভোগান্তি উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ধর্মঘটের সমাপ্তি পার্কিংয়ের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাশিত।