ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান, যাকে এসিল্যান্ড নামে পরিচিত, ২৩ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে দুটি পোস্ট করেন। প্রথম পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে।” পরে তিনি লিখেছিলেন, “আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।”

পোস্টগুলোর পর এসিল্যান্ডকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করা হয় এবং তিনি দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকা টাইমসের মতে, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্ত্রীসহ উপজেলা সদরেই বসবাস করছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসিল্যান্ড ওই রাতে জামালগঞ্জের UENO শিল্পী রাণী মোদকের তিন বছরের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টগুলো দেন।

ঢাকা টাইমসের সূত্রে, এসিল্যান্ডের অস্বাভাবিক আচরণে তিনি একটি আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং UENO রাণী মোদকের মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তিনি রাস্তায় যেকোনো ব্যক্তির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী মিয়াসহ পুলিশ দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান। সেখানে তিনি স্ত্রীর পরামর্শে ঘুমের ওষুধ পান, তবে ওষুধটি কার্যকর হয়নি। ১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিজনদের উপস্থিতিতে তাকে সিলেটের হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সিলেটের হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

UENO শিল্পী রাণী মোদক ফেসবুকে এসিল্যান্ডের নাম উল্লেখের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন, “তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, তা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।”

প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক ও দেশ রূপান্তরসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনা প্রতিবেদন করা হয়েছে। এসব সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে এসিল্যান্ডকে প্রথমে সিলেটের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খানও জানিয়েছেন যে তারা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছেন।