প্রথম আলো অনুযায়ী, সাভার ও ধামরাই উপজেলার পৃথক চারটি স্থানে তিন রাতে চারটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাগুলো বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত ঘটেছে এবং কোনো যাত্রী বা অন্য কেউ হতাহত হয়নি।

সাভার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আল আমিন খান এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনাগুলোর কারণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাগুলোকে নাশকতা হিসেবে দেখছে।

সাভারে, শনিবার রাতে সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে ২:৫৫ টায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নেভায় এবং ৩:০৮ টায় সম্পূর্ণ নেভানো হয়। বাসে চালক বা অন্য কেউ ছিল না।

ধামরাইয়ে, তিনটি পৃথক স্থানে তিন রাতে বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ধামরাই থানা রোড এলাকায় মেরামতের জন্য রাখা একটি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় এবং ফায়ার সার্ভিস ৩:১০ টায় আগুন নেভায়। শুক্রবার রাতে শ্রীরামপুর এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পল্লী সেবা নামের একটি বাসে ২:১৫ টায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় এবং ৩:২০ টায় আগুন নেভানো হয়। শনিবার রাতে শরীফবাগ এলাকায় আফাজ উদ্দিন কলেজের সামনে ডি-লিংক পরিবহনের একটি বাসে ৩:৪০ টায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় এবং ৪:২০ টায় আগুন নেভানো হয়।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল-আমিন খান বলেছেন, ঘটনাগুলো নাশকতামূলক বলে মনে হচ্ছে এবং গাড়িগুলো পরিষ্কার করে তালা মেরে পরে রাতে পথচারী বা অন্য কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগাচ্ছে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খান জানিয়েছেন যে ঘটনাগুলোর কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ধামরাই থানা রোড এলাকার ঘটনায় বাসের মালিক মামলা করবেন এবং মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আজ রোববার পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরের কাছে চিঠি দিয়েছে। সমিতি ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা ও আন্তজেলা রুটের ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।