ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। চ্যানেল আইর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, টানা তৃতীয় সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন শহরে মূলত তরুণদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ আয়োজিত হয়। প্যারিস ও লিয়নসহ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের হিসাব ভিন্ন। যুব সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোট দাবি করেছে, দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে প্যারিসে ছিলেন দুই লাখ। অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার এবং রাজধানীতে প্রায় ৭০ হাজার।
প্যারিসে শুরুতে শান্তিপূর্ণ মিছিল চললেও শেষ দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় থাকা ময়লার পাত্র ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। আল-জাজিরার সাংবাদিক নাতাশা বাটলার জানান, পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং শ্বাসকষ্টের কারণে সংবাদকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। এএফপি জানিয়েছে, প্যারিসের উপকণ্ঠে মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন এবং অন্তত একটি আগুন ধরানো বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
গ্রেপ্তারি ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন দ্য গার্ডিয়ানকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ থেকে ৫৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার বলছে, বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ হ্যালোইন উৎসবের পর পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গায় প্রায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়ায় সংঘর্ষের পর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







