প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ ঘিরে শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, তুলুজ ও মার্সেইল সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সংঘর্ষ ঘটেছে। স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে দেশজুড়ে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। গত ১৭ অক্টোবর থেকে টানা তৃতীয় শনিবার এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও, আগের দুটি শনিবারের তুলনায় এবার বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কম ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, সংঘর্ষে জড়ানো চাইলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
বিক্ষোভের পটভূমিতে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরে শ্রমিক সংগঠন ও 'ইয়েলো ভেস্ট' আন্দোলনকারীরাও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে যোগ দিয়েছেন। প্যারিসের একজন বিক্ষোভকারী জেরোম রদ্রিগেজ অভিযোগ করেছেন যে, দেশ পরিচালনা করছে অযোগ্য মানুষ যার কারণে সাধারণ পরিবারগুলো কষ্ট পাচ্ছে।
আর্থিক দিক থেকে, ফিচ রেটিংস গত শুক্রবার ফ্রান্সের ঋণের ভবিষ্যৎ অবস্থান 'নেতিবাচক' হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে সরকারের ব্যয় কমানোর চাপ বেড়েছে। এই অস্থিরতা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে—গতকাল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে, ইতালিতে ও রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা নেমেছেন।







