প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’ স্লোগান দেন এবং ‘পরিবর্তনের আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ লিখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।

বিক্ষোভকারীরা হাবিমা স্কয়ার থেকে রাবিন স্কয়ারে যেতে গিয়ে বিক্ষোভ সমাপ্ত করেন। একই দাবিতে জেরুজালেম ও হার্জলিয়া শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামের একটি গোষ্ঠী এই বিক্ষোভগুলো আয়োজন করেছে।

গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১২০ আসনের মধ্যে কোনো দল বা জোটই এককভাবে ৬১ আসন পায়নি। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট ৫৩ আসন, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮ আসন এবং আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট ১৯ আসন পেয়েছে। ফলে বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সাথে হাত মিলালে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্ভব, কিন্তু নেতানিয়াহু বিরোধী চার দলের মধ্যে তিন দল—ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু—আরব দল নিয়ে জোট গঠনে আগ্রহী নয় বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি জানিয়েছেন, নতুন পার্লামেন্টের প্রথম দিনই স্পিকার আমির ওহানাকে পদ থেকে সরানোর জন্য নেতানিয়াহু বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে স্পিকার পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে শনিবার হাবিমা স্কয়ারে নেতানিয়াহুর প্রায় ২০০ জন সমর্থক পাল্টা বিক্ষোভ করেন। তারা আরব দলগুলোর ওপর নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ আনে এবং ‘ইহুদি রাষ্ট্র’, ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’ স্লোগান দেন। বিদায়ী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন এবং বলেন, ‘আমরা কাউকে নির্বাচন চুরি করতে দেব না।’ তাঁর পাশের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ইহুদি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের অধিকার আরবদের দেওয়া হবে না।’