আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে গত ৯ মার্চ মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানি নাগরিক হামেদ মির্জাই তাঁর পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদেসেহ, গর্ভস্থ শিশু শ্যালিকা, বাবা-মা, দাদা-দাদি, ফুফু ও তাঁর স্বামী-মেয়ে, চাচা এবং বাবার এক চাচাতো ভাই সহ তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।
হামেদ ঘটনার দিন দুপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছিলেন যখন স্ত্রী ফোনে মাথাব্যথার ওষুধ আনতে বলেন। বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে বড় ধমাকার শব্দ শুনেন তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দেখেন ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ে। পরবর্তী ২০ দিন ধরে তিনি নিজে ধ্বংসাবশেষে স্বজনের খোঁজ পান। কাতারভিত্তিক আল-জাজিরাকে হামেদ বলেন, 'আমি একমাত্র সন্তান। ভাইবোন না থাকলেও ভাবতাম, বড় একটি পরিবার আছে আমার। এখন সেই মানুষগুলো, আমাদের মধ্যে বয়ে চলা ভালোবাসা—সবকিছু হারিয়ে গেছে।'
আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশ ও অঞ্চলের অন্তত ১১০টি বন্দরে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯টি আসন জিতেছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
আজকের পত্রিকা আরও জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাম্প্রতিক গোপন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে তেহরানের হাতে কয়েক মাসের খাদ্য ও জ্বালানির মজুত রয়েছে।
তেলবাজারে চরম অস্থিরতা
ইনকিলাবের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং ইরানে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২.৫% বৃদ্ধি পেয়ে ১১৮ ডলারে, অন্যদিকে ডব্লিউটিআই প্রায় ২% বেড়ে ১০৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, টানা চতুর্থ মাস জ্বালানি তেলের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে।
ইনকিলাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক সতর্কতা জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ বছর বিশ্বজুড়ে শক্তির বাজার চরম অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, জ্বালানির সার্বিক দাম প্রায় ৩২% বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিগত চার বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতা। তেলবাহী ট্যাংকারে আক্রমণ ও লোহিত সাগরে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।







