ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের টিনাসি রাজ্যে গত মাসের ৩০ সেপ্টেম্বর রিভারভেন্ড পুরুষ কারাগারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেম্বারে ক্রিস্টিয়া পাইক নামে একটি নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষাক্ত ইনজেকশনের দুটি ডোজ পুশ করা হলেও তার মৃত্যু ঘটেনি। ফলে তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তিনি কিছু দিন পর জেগে ওঠেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) একটি বিবৃতিতে তিনি সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের দিন তিনি মরার প্রস্তুতি নিয়ে চেম্বারে প্রবেশ করেছিলেন এবং উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মমতা প্রকাশ করেছিলেন। ইনজেকশন পুশ হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে যান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালের বেডে বিভ্রান্ত ও ব্যথিত অবস্থায় জেগে ওঠেন।

তিনি বলেছেন, ওই রাতের পর থেকে এক মুহূর্তও নেই যখন তার শরীরে ব্যথা নেই। হাত, গলা, কথা বলতে সব জায়গায় ব্যথা অনুভব করছেন। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিক কষ্টও থেকে गुजরছেন। তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার জন্য তিনি ব্যথিত। ১৯৯৬ সালে তিনি যাকে হত্যা করেছিলেন, তার পরিবারের কষ্টও তিনি অব্যাহতভাবে চিন্তা করছেন।

কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ডে একাকি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ২৮ বছর কারাগারের নির্জন সেলে কাটিয়ে এখন আবার একই অবস্থায় পড়েছেন। বিশ্বব্যাপী প্রার্থনা ও ভালোবাসা পাওয়ায় তিনি সাহস পাচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স ও আইনজীবীদের সেবা ও সহযোগিতার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমি জানি না সেই রাতে আমি কেন বেঁচে গেছি। সামনে কী হবে তা জানিনা। এ মুহূর্তে শুধু সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছি।"

১৯৯৬ সালে নিজের এক সহপাঠীর হত্যা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।